ছোটদের কথা
ছোটদের কথা
স্নেহের ছোট্ট বন্ধুরা,
আশা করি তোমরা সকলে ভাল আছো। এ সংখ্যাটি ইংরেজি এপ্রিল আর বাংলার চৈত্র-বৈশাখ। তোমরা তো জান চৈত্র হলো বাংলার বর্ষের শেষ মাস আর বৈশাখ হলো বছরের প্রথম মাস। চৈত্র সংক্রান্তি এবং নববর্ষ দুদিনই তো তোমাদের সকলের স্কুল ছুটি ছিল। চৈত্র সংক্রান্তি অর্থাৎ চৈত্র মাসের শেষ দিন চড়ক পুজো হয়, গাজন মেলা হয়। আর নববর্ষে হালখাতা পালন করেন ব্যবসায়ীরা। পুরাতন বর্ষের হিসেবপত্র মিটিয়ে নতুন খাতায় নতুন ভাবে হিসেব শুরু হয়। ব্যবসায়ীদের সারা বছরের খদ্দেররা সন্ধ্যাবেলায় গিয়ে তাদের সেই নতুন খাতায় অর্থ জমা দিয়ে হালখাতা করেন। ব্যবসায়ীরা তাদের হাতে নতুন ক্যালেন্ডার, একটি মিষ্টির প্যাকেট দিয়ে স্বাগত জানায়। এর পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সংস্থা, স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা প্রভাতফেরিতে রবীন্দ্রনাথের গান গেয়ে বর্ষবরণ করে, সন্ধ্যায় নাচ-গান-আবৃত্তি-নাটকের মতো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বর্ষবরণ করে। সাধারণত ১৫ এপ্রিল, ১ বৈশাখ পড়ে। ইংরেজি ১ এপ্রিলে তোমরা অনেকে বন্ধুদের বোকা বানাবার জন্য এপ্রিল ফুল কর। এর পিছনে কারণটা অনেকে হয়তো জানো তবু তোমাদের আর একবার বলি। এর পিছনে সবচেয়ে পরিচিত গল্প যেটা সেটা হল ফ্রান্সের ক্যালেন্ডার পরিবর্তন। ১৫৮২ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্সের পোপ গ্রেগোরি XIII ইংরেজি ক্যালেন্ডার পরিবর্তন করে জানুয়ারি থেকে নতুন বছর শুরু করেন। ঐ সময় অনেকে নতুন ক্যালেন্ডার মানতে দেরী করেছিল এবং তাদের মজা করে বলা হত April Fool. যাই হোক সেই থেকে ইংরেজি বর্ষ জানুয়ারি থেকে প্রচলিত হলেও এখনও কিন্তু সারা বিশ্বে আর্থিক বছর শুরু হয় ১ এপ্রিল থেকে এবং শেষ হয় ৩১ মার্চ।
এবার এপ্রিলের ১৪ তারিখটাও তোমাদের স্কুল ছুটি ছিল। কেন জানো নিশ্চয়ই। ১৪ এপ্রিল স্বাধীন ভারতের প্রথম আইন মন্ত্রী এবং ভারতের শাসন ব্যবস্থা কিভাবে পরিচালিত হবে তার জন্য যে সংবিধান প্রণীত হয় তার প্রধান স্থপতি ভীমরাও রামজি আম্বেদকর-এর জন্মদিন। সেই সংবিধান ভারতের গণপরিষদে ২৬শে জানুয়ারি ১৯৪৯-এ গৃহীত হয় এবং ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি তা কার্যকরী হয়। আমাদের সংবিধানের মূল কথা বা পথনির্দেশ যা সংবিধানের মুখবন্ধে লিপিবদ্ধ আছে তা তোমাদের পাঠ্য বইয়ের প্রথম পাতায় তোমরা পড়েছ বা পড়বে। তবু সেকথাগুলি আমাদের বার বার করে মনে করতে হবে। সেইজন্য এখানে তোমাদের সামনে সেই শপথ বাক্যগুলি তুলে দিলাম।
ভারতের সংবিধান প্রস্তাবনা
‘‘আমরা, ভারতের জনগণ, ভারতকে একটি সার্বভৌম, সমাজতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক, সাধারণতন্ত্র রূপে গড়ে তুলতে এবং তার সকল নাগরিকই যাতে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ন্যায়বিচার, চিন্তা, মতপ্রকাশ, বিশ্বাস, ধর্ম এবং উপাসনার স্বাধীনতা, সামাজিক প্রতিষ্ঠা অর্জন ও সুযোগের সমতা প্রতিষ্ঠা এবং তাদের সকলের মধ্যে ব্যক্তির মর্যাদা এবং জাতীয় ঐক্য ও সংহতি সুনিশ্চিতকরণের মাধ্যমে তাদের মধ্যে যাতে ভ্রাতৃত্বের ভাব গড়ে ওঠে তার জন্য সত্যনিষ্ঠার সঙ্গে শপথ গ্রহণ করে, আমাদের গণপরিষদে আজ, ১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর, এতদ্বারা এই সংবিধান গ্রহণ, বিধিবদ্ধ এবং নিজেদের অর্পণ করছি।’’
এই সংবিধানের বিধিমত এখন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের সাথে আমাদের রাজ্যেও ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দু-দফায় বিধানসভার নির্বাচন হচ্ছে। তোমাদের আমার ভালবাসা ও শুভেচ্ছা জানাই।
ইতি—
তোমাদের সম্পাদক বন্ধু