ছোটদের কথা
ছোটদের কথা
(ক) ফাঁকা ঘরে কোন শব্দ করলে গম গম করে কেন?
ফাঁকা ঘর বলতে বোঝায় যে ঘরে কোন আসবাবপত্র নেই। এই ধরণের ঘরে কথা বললে যে শব্দ তরঙ্গের সৃষ্টি হয় তা ঘরের দেওয়ালগুলিতে বার বার প্রতিফলনের ফলে গম গম শব্দের সৃষ্টি হয়। একে বলে অনুরণনা। ঘরে জামাকাপড় বা কাঠের আসবাব থাকলে শব্দতরঙ্গ এদের দ্বারা শোষিত হয়, তাই বারবার প্রতিফলিত হয় না ও অনুরণনের সৃষ্টি হয় না।
(খ) বজ্রপাত কি ও এর হাত থেকে বাঁচার উপায় কি?
আকাশে মেঘের যখন সঞ্চার হয়, সেই মেঘের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে তড়িত আধানের উদ্ভব হয়। জল যেমন উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে ধাবিত হয়, মেঘের তড়িতাধানও অনুরূপ ভাবে উচ্চ বিভব থেকে নিম্ন বিভবের দিকে ধাবিত হয়। এক্ষেত্রে নিম্ন বিভব বলতে পৃথিবীকে বুঝায়। পৃথিবী ও মেঘের মধ্যবর্তী স্থান বায়ুপূর্ণ। সাধারণ অবস্থায় বায়ু বাতাসের কুপরিবাহী, কিন্তু যখন মেঘ ও পৃথিবীর মধ্যে বিভব পার্থক্য প্রচুর হয় তখন বায়ু আর কুপরিবাহী থাকে না অর্থাৎ বাতাসের সাহায্যেই তড়িতাধান চলে আসে মাটিতে। তড়িত আবার সব সময় সরলরেখায় যাবার চেষ্টা করে। মাটি স্পর্শ করবার পূর্বে যদি গাছ, মানুষ ইত্যাদি এসে তড়িতের গমনপথে পড়ে তখন তড়িত তাহার ভিতর দিয়া মাটি স্পর্শ করে। এর ফলে ব্যক্তিটি বা গাছটি তড়িতাহত হয়ে যায়। কত পরিমাণ অধান মেঘের মধ্যে থাকে? মেঘের মধ্যে এত পরিমাণ আধান থাকে যে পৃথিবী ও মেঘের বিভব পার্থক্য হয় বেশ কয়েক বিলিয়ন ভোল্ট। দশ লক্ষকে বলে এক মিলিয়ন, আবার এক মিলিয়নের একশ মিলিয়নকে বলে এক বিলিয়ন তাহলে চিন্তা করো কত পরিমাণ তড়িত মেঘের মধ্যে উদ্ভব হয়।
এখন এর হাত থেকে বাঁচার উপায় কি? যে কোন জায়গায় উচ্চতম যে বস্তু থাকে তার মাধ্যমেই্ মেঘের তড়িত মাটিতে আসে। সুতরাং আকাশে বিদ্যুৎবাহী মেঘ থাকলে ফাঁকা মাঠে বা গাছের তলায় দাঁড়ান উচিৎ নয়। কোন কারণে ফাঁকা জায়গায় থাকলে মেঘ ডাকার সময় মাঠে শুয়ে পড়া উচিত। অর্থাৎ লক্ষ্য রাখা উচিত আশেপাশে কোন উঁচু বস্তু বা জায়গা আছে কিনা।
বড় বাড়ির ক্ষেত্রে দেখা যায় প্রায় ত্রিশূল আকৃতির একটা পরিবাহী ছাদের উপর রাখা হয় এবং পরিবাহীর সহিত একটা তার সরাসরি মাটির সহিত যুক্ত থাকে। ফলে বিভব পার্থক কোন সময়েই খুব একটা বেশি হয় না বা হলেও মেঘের বিদ্যুৎ পরিবাহীর মাধ্যমে মাটিতে চলিয়া যায়, বাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় না।
(গ) মশা উড়িলে আমরা শব্দ পাই কিন্তু পাখী উড়িলে শুনিতে পাই না?
কম্পনের হার কুড়ি অপেক্ষা বেশি এবং কুড়ি হাজার অপেক্ষা কম হইলে তবেই আমরা শব্দ শুনিতে পাই। মশার ডানার কম্পনের হার কুড়ি অপেক্ষা বেশি তাই আমরা গুনগুন শব্দ পাই কিন্তু পাখীর ডানার কম্পনের হার কুড়ির কম বলিয়া আমরা শুনিতে পাইনা।
(ঘ) জীবন্ত মানুষ জলে ডুবিয়া যায় কিন্তু মৃতদেহ ভাসিয়া ওঠে?
মানুষের শরীর যে আয়তনে জ্বল অপসারণ করে তাহার ওজন মানুষের শরীরের ওজন অপেক্ষা কম তাই জীবন্ত মানুষ ডুবিয়া যায়। কিন্তু মানুষ মরার পর ব্যাকটিরিয়ার পচন ক্রিয়ার মৃতদেহটি ফুলিয়া ওঠে অর্থাৎ মৃতদেহ কর্তৃক অপসারিত জলের ওজন মৃতদেহের ওজন অপেক্ষা বেশি তাই মৃতদেহ ভাসিতে থাকে।
(ঙ) দূরের জিনিষ আমরা ছোট দেখি কেন?
কাছে যে বস্তু থাকে তা আমাদের রেটিনার লেন্সে বড় কোণ তৈরি করে তাই প্রতিবিম্বটি বড় দেখা যায়। দূরের বস্তু ছোট কোণ তৈরি করে তাই প্রতিবিম্বটা ছোট দেখা যায়।