ছোটদের কথা
ছোটদের কথা
ষষ্ঠ শ্রেণি, বনপাশ শিক্ষা নিকেতন
বিগত ২২.০২.২৬, রবিবার কিশোর বাহিনীর ছেলেমেয়েরা ও সদস্যরা গিয়েছিলাম বর্ধমানে ভাতছালার ‘শিশু নিকেতন উচ্চ বিদ্যালয়’। এখানে আমাদের নিমন্ত্রিত করেছিলেন কিশোর বাহিনীর খুব কাছের মানুষ নতুন বন্ধু শ্রী ধীরেন্দ্রনাথ সুর মহাশয়। আমরা কামারপাড়া থেকে বেরিয়েছিলাম ৪.৩০ নাগাদ। নাচ, গান, হাসি, মজা করতে করতে কখন যে পৌঁছে গেলাম তা টেরই পাইনি। রাস্তার ধারে ধুলো, বালি মরা গাছ দেখলে মনটা কেমন কেমন করছিল বটে কিন্তু সবুজ গাছ পাতাগুলো দেখলে মনটা ভালো হয়েও যাচ্ছিল। আফসোস যদি রাস্তার ধারের গাছগুলো এই সুন্দর সবুজ গাছপালার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারত তবে আর তাদের রাস্তার একরাশ ধুলোর সঙ্গে থাকতে হতো না। যাইহোক, আমরা ঢুকতে না ঢুকতেই আমাদের খুব সুন্দর ভাবে আমন্ত্রণ করা হল। স্কুলটা এত বড় যে কী বলব! আমার স্কুলটা খুব ভালো লেগেছিল। রুমে ঢুকতেই দেখলাম যে শুধু আমরাই নই, আমাদের মতো অনেক ছাত্রছাত্রীই সেখানে উপস্থিত ছিল। সেখানে ডাঃ শংকর নাথ মহাশয় আমাদেরকে নিয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞান সম্পর্কে অনেক তথ্য দিলেন। তিনি আমাদেরকে স্লাইডশোর মাধ্যমে মহাকাশের বিভিন্ন গ্রহের গতিপথ ইত্যাদি বললেন। এমনকি তিনি আমাদের প্রথম বিজ্ঞান বিষয়ে শহিদ ‘জিওর্দানো ব্রুনোর’ কথা বললেন। এরপর মহাকাশ বিষয়ে সমস্ত খুঁটিনাটি তথ্য দেওয়ার পর আমাদের নিয়ে যাওয়া হল স্কুলের তিনতলা ছাদে। সেখানে একটি মজার জিনিসের আয়োজন ছিল সেটি হল টেলিস্কোপের মাধ্যমে আকাশ দর্শন। যেখানে আমরা চাঁদকে খোলা রাতের আকাশে পর্যবেক্ষণ করি সেখানে আমরা সেদিন টেলিস্কোপের মাধ্যমে স্পষ্ট করে চাঁদের সব গর্ত পাহাড় পর্যবেক্ষণ করলাম। গর্তগুলি গভীর থেকে গভীরতম বলে সূর্যের আলো ঠিকমত পৌঁছাতে পারছিল না। তাই গর্তগুলি কালো দেখাচ্ছিল। এমনকি আমরা ট্যাবের মাধ্যমে বৃহস্পতি গ্রহকে দেখলাম। প্রথমে রাতের আকাশে সেটি ছোটো আলোক বিন্দু বলে ভুল হলেও পরে সেটি ট্যাবের মাধ্যমে বৃহস্পতি গ্রহ বলে দেখানো হয়েছিল। সবশেষে আমরা নতুন বন্ধু ও ডাঃ শংকর নাথের সাথে ছবি তুললাম। শেষে নতুন বন্ধুকে প্রণাম করে বিদায় জানিয়ে ফিরে এলাম। ওই দিনটিতে আমরা খুব মজা করে কাটিয়ে ছিলাম।