ছোটদের কথা
ছোটদের কথা
শুরুতে ইসকুলে যেতে টুবলুর ভালো না লাগলেও এখন বেশ ভালো লাগে। ওখানে কতোরকম খেলা আর কতো খেলার সাথী! টুবলুর ইশকুল সকালে। সকাল সাতটা থেকে দশটা। মা আর বাবা দুজনেই অফিস যায়। তাই টুবলুর দাদু ওকে ইশকুলে দিয়েও আসে নিয়েও আসে। ইশকুল থেকে ফেরার পর টুবলুর সারাটা দিন কাটে দাদু আর ঠাকুরমা-র সাথে হইহই করে। ঠাকুমা গান শোনায়। রাজা-রানির কাহিনি শোনায়। আর দাদু শোনায় ছড়া বা ছোটো-ছোটো কবিতা। আবার মাঝে মাঝে সহজপাঠ বা কথামালা থেকে পড়ে শোনায়। দাদু যখন সহজপাঠ পড়ে শোনায় তখন সে খুব মন দিয়ে শোনে। আর শিশুমনে নিজের মতো করে ভেবে নেয়। ‘কুমোর পাড়ার গরুর গাড়ি’ শুনে সে বলে, ‘দাদু গরুর গাড়ি কী গো?’ দাদু তাকে গরুর গাড়ির ছবি দেখিয়ে বুঝিয়ে দেয়। টুবলু খুব মনোযোগ দিয়ে দেখে নেয় গরুর গাড়ি কেমন দেখতে এবং কেমন ভাবে চলে।
পরেরদিন দুপুরে নাতিকে চান করাবার জন্য ডাকতে গিয়ে ঠাকুমা দেখে টুবলু ঘরে নেই। ঘরে না পেয়ে লাগোয়া বারান্দায় গিয়ে দেখে একটা ছোটো টেবিলের ওপর দুপাশে দুটো পায়ের বালিশ দিয়ে তার মাঝখানে বসে টুবলু হেই-হ্যাট হেই-হ্যাট করছে। ঠাকুমা অবাক হয়ে কী করছে জানতে চাওয়ায়, টুবলু বলল, ‘গরুর গাড়ি চালাচ্ছি। কুমোর পাড়ার গরুর গাড়ি।’ টুবলুর খেলা দেখতে দাদুও সেখানে এসে পড়েছে। দাদুকে দেখে টুবলু খুব খুশি। বলল, ‘দাদু চলে এস আমার গরুর গাড়িতে।’
একা টুবলুই বাড়ি মাতিয়ে রেখেছে। সেদিন ছিল শনিবার বাবা ও মায়ের অফিস ছুটি। বাবার কাছে টুবলু ইশকুলের পড়া করার পর নিজের মনে দাদুর ঘরে খেলছিল। টুবলুর মা ছেলেকে দোকানে নিয়ে যাবে বলে ডাকতে এসে দেখে টুবলু ঘরে নেই। অনেক ডাকাডাকিতেও সাড়া পাওয়া গেল না। তখন শুরু হল খোঁজাখুঁজি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর বাড়ির পেছনের পুকুরে পাড়ে একটা গাছের তলায় পাওয়া গেল টুবলুকে। সে তখন একটা সুপুরি পাতা দিয়ে ঘর বানাচ্ছে। টুবলুর বাবা অবাক গলায় বলল, ‘কী রে টুবলু, তুই পুকুর ধারে একা-একা এসব কী করছিস? টুবলু বলল, ‘আমি এখানে বনবাসী হব।’ ওর বাবা বলল, ‘মানে?’ টুবলু বলল, ‘ওই যে গতকাল দাদু পড়ে শোনাল--ওইখানে মা পুকুরপাড়ে, জিওল গাছের বেড়ার ধারে, হোথায় হব বনবাসী। তা তাই আমি পুকুরপাড়ে বনবাসী হচ্ছি।’