ছোটদের কথা
ছোটদের কথা
নবম শ্রেণি, বর্ধমান পৌর উচ্চ বিদ্যালয়
সকাল হতেই বই পত্র নিয়ে
বসে পড়তাম পড়তে,
তারপরেতে স্নান খাওয়া,
যেতাম বন্ধুরা মিলে সব
স্কুলেতে।
স্কুলে গিয়ে মজা ভারি
বন্ধুরা সব মিলতাম,
টিচারদের সব ক্লাস করে
মাঠে খেলা জমাতাম।
ক্রিকেট, ফুটবল, কবাডি আরও
নানান কত খেলা,
টিফিন আওয়ার্স, অফ পিরিয়ড
এভাবেই কেটে যেত,
কেটে যেত শত শত বেলা।
আহা! কি সুন্দরই ছিল সেই
নস্টালজিক স্কুল লাইফ,
পড়ায়-খেলায় কেটেছিল ছেলেবেলা।
এরপর যখন বয়স আমার
২২-এর গণ্ডি পার হলো,
দুশ্চিন্তার চক্রব্যূহ
আমায় গ্রাস করলো।
প্রতিটা রাতের সুখের ঘুম
যখন আস্তে আস্তে
উবে যাচ্ছে,
ছেলেবেলায় মায়ের বাহুডোরের
কথা আজ মনে পড়ছে।
বাবা-মা-র ভীষণ অসুখ
সংসারের হাজার চাপ,
সবার চাহিদা মেটাতে গিয়ে
কপালে পড়েছে অসংখ্য ছাপ!
ছেলেবেলায় ভাবিনি এমন
বড়বেলাটা হবে,
নিশিরাতে ভাবছি আমি,
গগন পানে চেয়ে
“ছেলেবেলাটা আরেকবার যদি
আসতো আমাতে ফিরে...।”
স্কুলের দিকে তাকিয়ে
যখন বিস্তীর্ণ, উন্মুক্ত মাঠকে দেখি
বুকটা কেমন করে আসে,
চোখের কোণে অশ্রু দেখি।
ছেলেবেলার সেই কত্ত স্মৃতি
আজও মনে পড়ে!
ডিসেম্বরের শীতল হাওয়ায়
অ্যানুয়াল একজাম দিতে ইচছা করে,
সেই পরীক্ষাই সহজ ছিল,
এখনকারটা কঠিন!
স্মৃতির পাখিরা কানে কানে বলে যায়,
ফিরে দেখা সহজ হলেও
ফিরে যাওয়াটা কঠিন॥
বাবা মেয়ের স্নেহের জগৎ
চিরকাল থাকবে জানি,
বাবার মেয়ে আমি যেমন
বাবাকে আমার ছেলে মানি।