ছোটদের কথা
ছোটদের কথা
জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রাণীদের মূলকাজ কি? যদি বলা যায় খ্যাদান্বেষণ, তাহলে হয়তো অবাক হবে অনেকেই। সত্যিই তাই, মানুষ ছাড়া অন্যান্য প্রাণীদের জীবনের বেশীরভাগ সময়টুকু কেটে যায় জীবন ধারণের জন্য খাদ্যের খোঁজে। মানুষের বেলায় একটু অন্যরকম। কেন্দ্রবিন্দু খাদ্য হলেও, চিন্তাশক্তি বুদ্ধি-বৃত্তির সাহায্যে তারা খাদ্য চিন্তা থেকে মুক্ত হয়ে অবসর বিনোদনে জীবনের কিছুটা অংশ কাটায়। কিন্তু মনুষ্যেতর প্রাণীদের বেলায় ‘অন্ন’ চিন্তা ছাড়া অন্য চিন্তা স্থান পায় না মোটেও। বুঝতেই পারছ, ‘অন্ন’ কথাটা এখানে ভাত অর্থে নয়, খাদ্য অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে।
খাওয়া-খায়ির ব্যাপারে প্রজাপতিদের আচরণে একটু মজা লক্ষ্য করা যায়। কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন গবেষক, প্রজাপতিদের খাদ্যান্বেষণ রীতি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে করতে দেখেন, ওরা প্রায় একই রকম ফুলের মধুতে সন্তুষ্ট থাকে। পাশেই হয়তো অন্যজাতের ফুল আছে, তবু প্রজাপতিরা, অনেকটা পথ ঘুরথে হলেও অভ্যস্ত ফুলের কাছেই ছোটে। তাঁর মনে প্রশ্ন জাগে কেন তারা পাশের ফুলটিকে অবহেলা করল? তিনি করলেন কি খাঁচার মধ্যে কুড়িটি বিভিন্ন জাতের ফুলের মেলায় ছেড়ে দিলেন কিছু প্রজাপতি। প্রজাপতিরা প্রথম যে ফুলটি বেছে নেয়, খুঁজে খুঁজে সেই ফুলটিতেই বসেছে। প্রথমে তারা পছ¨মত ফুলটিতে বসে মধুভাণ্ড খুঁজে মধুপান করতে যে সময় নেয়, পরের ফুলগুলিতে সেই সময় অনেক অনেক কমে যায়। মনে হয় যেন বসছে আর উড়ে যাচ্ছে। আসলে কিন্তু তা নয়। ঐ ফুলের মধুভাণ্ডের অবস্থান জেনে ফেলেছে তারা, তাই সেটি খুঁজতে সময় নষ্ট হয় না মোটেই।
এবার ল্যুইসের মাথায় অন্য চিন্তা এল। তিনি প্রজাপতিগুলোকে অন্য একটি ফুলের খাঁচায় ছেড়ে দিলেন। এখন আবার তারা সময় নিয়ে বসছে ফুলের উপর। অর্থাৎ মধুভাণ্ড থেকে মধু আহরণ শিখতে হচেছ নতুন করে। শিক্ষা শেষ হল খুব তাড়াতাড়ি খাওয়ার কাজটুকু সেরে নিতে অসুবিধা থাকে না তাদের।
কিন্তু মজা হল, ঐ প্রজাপতিগুলোকে আবার প্রথম খাঁচায় ছেড়ে দিয়ে। ল্যুইস বিস্মিতভাবে দেখলেন, প্রজাপতিগুলো একদম ভুলে গেছে আগের ফুলটিকে। চিনতে না পারার জন্য আবার নতুন করে শিখতে হচ্ছে মধু আহরণের বিদ্যা। এ যেন নতুন মিতা পেয়ে পুরোন বন্ধুকে ভুলে যাওয়া আর কি?
এইসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ল্যুইস সিদ্ধান্তে পৌঁছোলেন যে ১) প্রজাপতিদের স্মৃতিশক্তি খুবই দুর্বল, ২) প্রজাপতিদের একই ফুল অনুগত থাকার কারণ খাদ্য আহরণে সময় সংক্ষেপে করার তাগিদ।
কারণ একটা প্রজাপতির জীবনকাল মাত্র দু’সপ্তাহ। তাই এই সময়টুকুর পূর্ণ সদ্ব্যবহার করে নেওয়াই উচিত। তাই নয় কি?