ছোটদের কথা
ছোটদের কথা
আজ একটা ঘটনার মতো ঘটনা ঘটল।
মিলি আর তার এক মিনিটের বড়ো দাদা বিলে পাড়ার হরিপদ জেঠুর দোকান থেকে মুড়ি-মুড়কি কিনতে গিয়েছিল। ওরা মুড়ি-মুড়কি কিনে বাড়ি ফিরছিল। মিলির হাতে মুড়কির ঠোঙা। বিলের হাতে মুড়ির ঠোঙা। সবে দোকান থেকে এগিয়েছে, এমন সময় পাড়ার এক বদমাইশ ছেলে ঘোতন, মুচকি মুচকি হাসতে হাসতে ওদের দিকে এগিয়ে এল।
বলল— কী রে, দোকান থেকে তোরা কী কিনলি?
বিলে বলল— মুড়ি-মুড়কি।
ঘোতন খিক খিক করে কিছুটা হেসে নিয়ে বলল— আজকাল কেউ মুড়ি-মুড়কি খায় নাকি?
মিলি বলল— কেন ঘোতন দাদা, কেউ যদি না-ই খাবে, তাহলে হরিপদ জেঠু বেচবে কেন? আমরা খাই। অনেকেই খায়। তুমি বুঝি মুড়ি-মুড়কি, চিড়েভাজা, ছোলাভাজা খেতে ভালোবাসো না?
মিলির কথা শুনে ঘোতন মনে মনে চটে গিয়ে বলল— মিলি, তুই তো বেশ কথা বলতে শিখে গেছিস!
বিলে মিলিকে হাত ধরে নিজের কাছে একটু টেনে নিয়ে বলল— এ আর শেখাশেখির কী আছে? ও তো মিছে কথা বলেনি। যাক গে, তোমার ভালো লাগে না, মুড়িমুড়কি খেও না। আমাদের ভালো লাগে আমরা খাব। এতে আবার এত কথার কী আছে?
ঘোতন এবার একটু রাগ দেখিয়ে বলল--আছে আছে।
বিলে বলল— ঠিক আছে। এবার সরো, আমাদের বাড়ি যেতে দাও।
তারপর মিলিকে বলল— চল বোনু, বাড়ি চল।
ওরা একটু এগুতে যাবে এমন সময় ঘোতন বলল— বাড়ি যাবি যা। তবে মুড়ি-মুড়কির ঠোঙাগুলো আমাকে দিয়ে যা।
মিলি বলল— তুমি তো বললে, তুমি মুড়ি-মুড়কি খেতে ভালোবাসো না। তাহলে তোমাকে দেব কেন?
ঘোতন এবার বিলে আর মিলির হাত থেকে ঠোঙা দুটো কেড়ে নিয়ে বলল— যা, এবার বাড়ি যা। আমি খাইনা, তোদেরও খেতে দেব না। যা পারিস করগে যা।
মিলির মনটা খুব নরম। ও কেঁদে ফেলল। কেঁদে কেঁদে বলতে লাগল— তুমি খুব পাজি। দাঁড়াও, তোমার মাকে বলে দেব।
বিলে বলল— ঘোতনদা, এটা ভালো করলে না। দাও না ঠোঙা দুটো দাও।
ঘোতন রোয়াব দেখিয়ে বলল--বললাম তো দেব না, যা পারিস করগে যা।
এমন সময় সেই ঘটনাটা ঘটল।
পথের পাশের একটা গাছের ডাল থেকে কয়েকটা কাক উড়ে উড়ে ঘোতনের মাথা ঠুকরাতে লাগল। ঘোতন তখন, ওরে বাবা রে গেলুম রে বলে চিৎকার করে চেঁচাতে লাগল। লোকের ভিড় জমে গেল। সবাই কাকদের তাড়াতে লাগল। কাকেরা কিছুতেই গেল না। বরং এই কাকেদের ডাক শুনে আশেপাশে থাকা কাকেরা এসে ঘোতনের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। এই সুযোগে বিলে ঘোতনের হাত থেকে মুড়ি-মুড়কির ঠোঙা দুটো নিয়ে মিলির হাত ধরে বাড়ির দিকে রওনা দিল।
বিলে মিলি বুঝে গেল রোজ সকালে ওরা যে- কাকেদের রুটি-মুড়ি খাওয়ায়, মিলি আবার জলেতে মধু মিশিয়ে খাওয়ায়, এরা হল সেই কাকের দল।
ঘোতন এখন হাসপাতালের বেডে শুয়ে বাপ রে মা রে গেলুম রে বলে কাঁদছে।