ছোটদের কথা
ছোটদের কথা
গ্রামের ছেলে গোপাল। সহজ, সরল এবং খুবই সৎ। গ্রামের মাটিতে মাটির গন্ধে বেড়ে ওঠা জীবন। মাটি যেন তার প্রাণ। গ্রাম বাংলার গাছপালা, প্রকৃতি, পশু, পাখি এদের মাঝেই তার জীবন কাটে। ‘যতই কষ্ট হোক নিজের কাজ নিজে করলে একদিন অবশ্যই ভালো ফল পাবে, স্কুলের প্রধান শিক্ষকের এই উপদেশ গোপালের কানে সব-সময় বাজে।
প্রধান শিক্ষকের কথা গোপাল অক্ষরে অক্ষরে পালন করে।
সেদিন প্রধান শিক্ষক বললেন, ভোরবেলায় ঘুম থেকে ওঠা শরীর ও স্বাস্থ্যের পক্ষে শুভ।
ভোরবেলায় মন দিয়ে দু’ঘণ্টা লেখাপড়া করলেই যথেষ্ট। সারাদিন বই নিয়ে বসে থেকে লাভ নেই।
গোপাল বলল, ভোরবেলায় লেখাপড়া কেন ভালো?
প্রধান শিক্ষক বললেন, এই সময় মাথা ঠান্ডা থাকে। সারারাত আমরা যখন ঘুমিয়ে থাকি তখন মাথার নার্ভগুলি বিশ্রাম পায়। কয়েক ঘণ্টা বিশ্রামের পর নার্ভগুলি আবার সচল হয়ে ওঠে। নার্ভগুলি শক্তি পায়।
গোপাল রোজ স্কুলে আসে। গোপালরা গরিব। প্রতিদিন খাবার জোটে না। স্কুলে এলে মিড-ডে মিল পায়। কী করবে কষ্ট হলেও স্কুলে চলে আসে। যখন কষ্ট হয় মনে পড়ে যায় প্রধান শিক্ষকের উপদেশগুলি। সততার মূল্য অবশ্যই আছে। সত্যবাদীকে সবাই ভালোবাসে, শ্রদ্ধা করে।
গতবছর গোপাল স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষায় প্রথম হয়েছিল। প্রধান শিক্ষক গোপালকে আশীর্বাদ করে বললেন, মন দিয়ে লেখাপড়া করো। পরিশ্রম কখনও বিফলে যায় না।
সবার মতো গোপালও স্বপ্ন দ্যাখে। গোপাল জানে কেবল স্বপ্ন দেখলেই হবে না। স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার ব্যাপারে যথেষ্ট কষ্ট ও উদ্যম থাকা প্রয়োজন।
গোপাল আজ কেবল স্কুলের গর্ব নয়, দেশেরও গর্ব। অনেক বাধা উপেক্ষা করে গোপাল তার বন্ধুদের নিয়ে একটি শান্তির ক্লাব তৈরি করেছে। পাড়ার ভালো, মন্দ এই ক্লাব দেখাশোনা করে। গোপালের এই আসাধ্যসাধন কষ্টের জয় শুধু তার একার নয়, এলাকাবাসীরও।