ছোটদের কথা
ছোটদের কথা
বড়োদের আচার-আচরণ বুজু ঠিক বুঝে উঠতে পারেনা। ও কিছু করতে গেলেই বড়োরা সবাই একেবারে বুজুর। এইতো আজ সকালেই অনেক কষ্টে পা লেংচে হাত বাড়িয়ে হাত ধোওয়া বেসিনের কলটা যেই খুলেছে অমনি মা রান্নাঘর থেকে চেঁচিয়ে উঠল, ‘বুজু কল বন্ধ কর। জল নষ্ট করবি না।’ ভারি অবাক কাণ্ড! নিজেরা যে সারাদিন বেসিনের কল খুলে জল ফেলছে তার বেলায় কোনো দোষ হয় না!
পদে পদে বাধা বুজুর খুব খারাপ লাগে। রাগ হয়। চেঁচিয়ে কাঁদতে ইচ্ছে করে। সেদিন দাদু একটা খাতা আর মোম রঙ এনে বুজুর হাতে দিয়ে বললেন, ‘দাদুভাই খাতার ছবিগুলো রঙ করে আমাকে দেখাবে, কেমন। বুজুর খুব ভালো লাগল। খুব খুশি। সাথে সাথে খাতা আর মোম রঙ নিয়ে বসে পড়ল। খাতায় কিছুটা রঙ করার পর মনে হল ঘরের মেজে এবং ঘরের দেয়ালগুলোতেও রঙ করা দরকার। যেমন ভাবনা তেমন কাজ! রঙ করার খাতা ছেড়ে বুজু সবে দেওয়ালে রঙ লাগাতে শুরু করেছে, ঠিক সেই সময় বাবা ঘর ঢুকে চেঁচিয়ে উঠল, ‘এ কী রে বুজু, এ কী করছিস? দাদু তোকে খাতার ছবিগুলো রঙ করতে বলেছে। ঘরের দেওয়ালে নয়।’ একথা বলেই বাবা বুজুর হাত থেকে কেড়ে নিল মোম রঙ। বুজুও সাথে সাথে শুরু করে দিল কান্না। ছুটে এল বাড়ির সকলে। সবকিছু দেখেশুনে ঠাম্মা বুজুকে কোলে নিয়ে আদর করে চোখের জল মুছিয়ে দিয়ে বাবাকে খুব বকলেন। বাবাকে যখন ঠাম্মা বকছে বুজুর তখন খুব মজা লাগছে। মনে হয় বলছে, ঠিক হয়েছে। ঠিক হয়েছে। আর কখনও আমার কাজে বাধা দেবে! মা কোথা থেকে একটা কাপড় এনে দেওয়ালের রঙ তুলতে গেলে দাদু বললেন, ‘না। ওই রঙ কেউ মুছবে না। ওসব থাকবে। আমার দাদুভাইয়ের হাতের কাজ বলে কথা! ‘বুজুর তখন খুব ভালো লাগছে। এই জন্য ওর দাদু-ঠাম্মাকে এতো ভালো লাগে।
দাদু যা বলে যা করে বুজু সব নকল করার চেষ্টা করে। দাদু কিভাবে মুখ ধোয়, কিভাবে চুল আঁচড়ায় সব খেয়াল করে সে। দাদু রোজ রাতে খাওয়াদাওয়া সেরে বাঁধানো দাঁত খুলে রেখে শুতে যায়। সেদিন রাতে খাওয়াদাওয়ার পর বুজুকে দেখা যাচ্ছে না। এঘর ওঘর দেখতে দেখতে দেখা গেল উত্তরের একটা ঘরের এক কোণায় দাঁড়িয়ে কী একটা করছে। সবার ডাকাডাকিতে বুজু বলল, ‘আমি বড়ো হয়ে গেছি। দাদুর মতো দাঁত খুলছি।’