ছোটদের কথা
ছোটদের কথা
(রাজস্থানের দোল)
এই ফাগুনে কাশীর ষাঁড়ে বলল গরুর কানে,
‘‘গিন্নী, এবার খেলব হোলি আমরা রাজস্থানে’’,
আট পায়েতে হেঁটেই অনেক দূর
পৌঁছে গেল দুজনে যোধপুর,
থর মরুতে উটের দলে দেখতে তাদের পেলো
থুতনি নেড়ে গলার ঘণ্টি বাজিয়ে তারা এলো,
বলল হেসে, ‘‘নন্দীর পো, খেলবে হেথায় দোল?’’
হোলির নামটা ধুলান্ডি হে-রাজস্থানি বোল,
কাঠ কুটোর ঐ হোলকা হবে জ্বালা
পরিয়ে সাঁঝে গলায় ঘুঁটের মালা,
খেও দুজনে আলু পোড়া, সঙ্গে যবের আঁটি
কাল সকালে হোলি খেলা হবেই পরিপাটি,
খেজরি গাছের তলায় সবাই পরদিন হলো জড়ো
কিং অফ্ রণ থম্ভোর বলে, ‘‘তাড়াতাড়ি করো’’,
শুঁড়টি তুলে বৃংহণ রবে হাতি
বলল, ‘‘এসো, রঙের খেলায় মাতি’’,
উটের লম্বা পায়ের ফাঁকে ছুটল কৃষ্ণসার
ব্যাঘ্র বলেন, ‘‘দাঁড়া ব্যাটা, তুই পাবি না পার’’,
ময়ূর নাচে পেখম তুলে, বলল, ‘‘সরি ভাই,
কৃষ্ণ এত রঙ দিয়েছে, আর কি দেবে ছাই?’’
নীল আকাশে উড়ছে টিয়ের ঝাঁক
বলছে, ‘‘সবুজ আলপনাটা আঁক!’’
মুখেতে রং মেখে সবাই যখন মাতোয়ারা
কাশী ফেরার জন্য গরু ষাঁড়কে লাগায় তাড়া।
খেজরির গাছ : রাজস্থানের প্রতীক বৃক্ষ, কাগজে কলমে সংরক্ষিত, যারা এটা কাটছে তারাও ‘সংরক্ষিত’।