ছোটদের কথা
ছোটদের কথা
স্নেহের ছোট্ট বন্ধুরা,
প্রতিবারের মতো এবারও তোমরা নিশ্চয়ই স্কুলে বা পাড়ায় বসন্তোৎসব ও দোল-হোলির আনন্দ করেছো। নৃত্যের তালে তালে বন্ধুদের নিয়ে বসন্ত বরণে কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়েছ— ওরে গৃহবাসী খোল দ্বার খোল। রঙ খেলেছো কেউ বা আবির খেলেছ। তোমরা একটু উঁচু ক্লাসে যারা পড়ো তারা তো জান বাংলার ছয় ঋতুর মধ্যে ফাল্গুন-চৈত্র এই দুমাস হল বসন্তকাল আর এই বসন্তকালকে বলে ঋতুরাজ। ভাদ্র-আশ্বিন এই দুমাস শরৎকালকে বলে ঋতু রানী। কার্তিক-অগ্রহায়ণ হল হেমন্তকাল। তোমরা নিশ্চয়ই দেখেছ শীতের শেষে হেমন্তকালে প্রকৃতির গাছে গাছে পাতা ঝরার রুক্ষ শুকনো রূপ। প্রকৃতির ঝরা পাতার শুকনো রূপ ধীরে ধীরে বসন্তে এসে কিভাবে গাছে গাছে কচি নবপল্লবে ভরে যায়। নব মুকুলে সেজে ওঠে। রক্তিম পলাশ শিমূলে অপরূপ সাজে সেজে ওঠে প্রকৃতি। তার সঙ্গে চলে আসে মিষ্টিভাষী কোকিলের দল। সারাদিন মাতিয়ে তোলে তাদের কুহু কুহু মিষ্টি স্বরে। তাই কবিরা পলাশ শিমূল আর কোকিলকে বলেছেন বসন্তের দূত, লিখেছেন কত কবিতা, কত গান, কত কথা। তোমরা অনেকে হয়তো এই মনমাতানো প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখে থাকবে। অনেকে হয়তো শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথের প্রবর্তিত বসন্তোৎসবে গেছ, আনন্দ করেছ। শহরের চারদেওয়ালের মাঝে প্রকৃতির এই রূপ বোঝা যায় না। ঋতুরাজ বসন্তের সৌন্দর্যে আনন্দ পেতে গেলে শহর ছেড়ে যেতে হবে পল্লীবাংলার প্রকৃতির কোলে। আমরা আশা করব তোমরা যারা শহরে থাক তারা বাংলার ঋতু নিয়ে রচনা মুখস্থ না করে কাছেপিঠে কোন গ্রামে গিয়ে বাংলার ঋতু বৈচিত্র অন্তরে অনুভব করবে।
ইতি—
তোমাদের সম্পাদক বন্ধু