ছোটদের কথা
ছোটদের কথা
পৃথিবীর যে কোন পাহাড়ে যাই, সে শশুনিয়া থেকে হিমালয় যাই হোক না কেন, একটা দুটো পাথর কুড়িয়ে আনি। তবে একটা দুটো বললে একটু কম করেই বলা হয়। মাঝে মাঝে অনেকুগলো করেই কুড়িয়ে ফেলে ব্যাগ প্রচুর ভারি করে ফেলি। তাই আমাকে কুড়ুনিও বলা যেতে পারে। সঙ্গে যারা যখন গেছে তারা বিলক্ষণ জানে।
একবার সিকিমে গেছিলাম দিদির পরিবারের সঙ্গে। সেবার দিদির মেয়ে পিয়ালি ভালোবেসে আমার ব্যাকপ্যাকটা বয়ে দিচিছল। সেযুগে ব্যাকপ্যাক নিয়ে খুব বেশি পর্যটক যেতেন না, ট্রেকিং এর লোকজন ছাড়া। তাই সে ওটা শখ করেই বইছিল। সেবার আমি এত পাথর কুড়োলাম যে শেষে ফেরার সময় ব্যাগটা বইতে সে আর রাজি হল না। অগত্যা!!
এবারেও আল্পস পর্বত থেকে কুড়িয়ে আনলাম, ব্যাগ অনেক ভারি করে। শুধু নিজের জন্য তো পাথর কুড়োই না। ছাত্রছাত্রী, বন্ধুবান্ধব অনেকের জন্যই আনি সেসব পাথর।
এ তো গেল আনার কথা। কিন্তু এত পাথর রাখি কোথায়? কিছু পাথরকে কাঠের বেস বানিয়ে ঘর ও অফিস সাজাতাম এক কালে। সেসবও একসময় টান মেরে কিছু দিয়ে দিলাম ছাত্রছাত্রীদের। ছোট ঘরে অত রাখার জায়গা হয় না। তাই মধ্যে মধ্যেই বিলি বণ্টন করি। নাহলে তো কুড়োনো বন্ধ করতে হবে। তাতে এখনও মন থেকে সায় নেই।
ফিরে আসি পাথর কুড়োনোর কথায়। এই যে খুঁজে বেড়ানো। তার মধ্যে ‘‘পাইলেও পাইতে পারো অমূল্য রতন’’ জুটেও যায়। অনেকবার জীবাশ্ম পেয়েছি। বকখালির মত বিপুল পর্যটক অধ্যুষিত সৈকতেও একখানা বেশ বড় জীবাশ্ম পেয়েছিলাম।
জীবাশ্ম বলতে আমরা সাধারণভাবে প্রস্তরীভূত জীবের দেহাংশকেই বুঝি। কিন্তু প্রাণী ও উদ্ভিদের ছাপ থেকে যাওয়াকে জীবাশ্ম বলে গণ্য করা হয়। যেমন ধরা যাক গাছের কথা। গাছের কাণ্ড ও ডালপালা প্রস্তরীভূত হতে পারে কিন্তু গাছের পাতার দ্বারা তো সম্ভব নয়। কিন্তু পাতাও তো তার ছাপ রাখতে চায়। সেরকম একখানা অমূল্য পাতার ছাপ পেয়েছিলাম একবার। এর দাম আমার কাছে অনেক অনেক বেশি। পুরনো যা কিছু সব ফেলে দেওয়া কোন কাজের কথা নয়। তবে হ্যাঁ কোনটা রাখব আর কোনটা ছাড়ব, সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা সিদ্ধান্ত। যেখানে আমরা সকলেই অল্পবিস্তর আটকে যাই মাঝে মাঝে। কিন্তু পারলাম না বলে সেই প্রচেষ্টা ছেড়ে দেওয়াটা চলে না।
রাখলাম একখানা পাতার ছাপ পাথরের মধ্যে আমার সংগ্রহ থেকে। একটু বড় করলে দেখতেই পাবেন যে পাতাটি তার প্রতিটি শিরা ও উপশিরার ছাপও রেখে গেছে নিজে শেষ হয়ে যাবার সময়ে।