ছোটদের কথা
ছোটদের কথা
না মানুষী প্রাণীদের বুদ্ধিমত্তা এবং অনুভূতি নিয়ে অনেক গবেষণা হলেও সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণায় জানা গেছে এদের মধ্যে নামকরণের প্রবণতাও দেখা যায়। কেবলমাত্র মানুষ নয় বটলনোজ ডলফিন, মার্মোসেট বাঁদর, আফ্রিকান হাতি ইত্যাদি প্রাণীদের মধ্যে নামকরণের প্রবণতা দেখা যায়।
আফ্রিকান হাতিরা একে অপরকে নিজেদের দেওয়া নামে কথা বলে ও ডাকে। সর্বাপেক্ষা আশ্চর্যের ব্যাপার হল, এইসব নামের সাথে মানুষের নামেরও অনেক মিল আছে বলে জানা গেছে। এই ডাক শুনে তারা একে অপরকে চিনতেও পারে। বন্য আফ্রিকান হাতি নিয়ে এই গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে ‘নেচার ইকোলজি এণ্ড ইভোলিউশন জার্নাল’-এ। বেশ কিছুদিন ধরে গবেষকরা হাতি নিয়ে গবেষণা করে কিছু চমকপ্রদ তথ্য দিয়েছেন। গবেষকরা যখন কোন দলকে কোন একটি নামে ডাক দেয়, তখন ওই দলের মধ্যে কেবল একটি হাতিই সেই ডাকে সাড়া দেয়। কেনিয়ার সাভানা অঞ্চলের হাতিদের মধ্যে গবেষণায় এমন তথ্যটি উঠে এসেছে। আম্মাসেলি ন্যাশনাল পার্ক এবং সাম্বুরু ন্যাশনাল পার্কের ১০০টি হাতির কণ্ঠস্বর নিয়ে গবেষণাটি করা হয়েছে। হাতিগুলি তাদের ভোকাল কর্ড ব্যবহার করে তারা দেখেছেন শব্দগুলির মধ্যে নাম সদৃশ উপাদান বর্তমান রয়েছে, যা কোন একটি নির্দিষ্ট হাতিকেই চিহ্নিত করে। এরপর গবেষকরা ১৭টি হাতির মধ্যে এই অডিওটি বাজিয়েছিলেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল হাতিগুলি কিভাবে সাড়া দেয় তা দেখা। তারা এই অডিওটির উৎসের দিকে অগ্রসর হয়েছিল। কর্ণেল ইউনির্ভাসিটির আচরণগত বিজ্ঞানী এবং কলোরাডো স্টেট ইউনিভার্সিটির প্রাক্তন মিকি পারডোরের মত অনুসারে জানা গেছে হাতিরা নামের মত কিছু একটা দিয়ে একে অপরকে সম্বোধন করে অর্থাৎ তারা একে অপরকে ব্যক্তি হিসেবে সম্বোধন করে। এটা প্রমাণ করে যে, তাদের মধ্যে সামাজিক বন্ধন ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও তারা দূরবর্তী কোনো হাতির দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য নির্দিষ্ট কণ্ঠের স্বর ব্যবহার করে থাকে। মানুষের সমাজে যখন কোন মানুষকে ডাকা হয় তারা যেমন প্রতিক্রিয়া করে অথবা এগিয়ে আসে; হাতিদের মধ্যেও এমন ব্যাপারটি দেখা যায়। স্থলচর প্রাণীদের মধ্যে অন্যতম বুদ্ধিমান, তুখোর স্মৃতিশক্তির অধিকারী হাতি। তারা একে অপরকে অভিবাদন জানায়, দলের কোন হাতি অথবা তাদের সন্তানের মৃত্যু হলে রীতিমতো তাদের সৎকার করে। এই দুঃখ তাদের অনুভূতিশীল মনকেও স্পর্শ করে বলে জানা গেছে।
মার্কিন সংবাদপত্র ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুসারেই জানা যায় মার্মোসেট বাঁদরদের মধ্যে এই নামকরণের প্রবণতা দেখা যায়। তারাও একে অপরকে ডাকতে গেলে বিশেষ শব্দ উৎপন্ন করে থাকে। সেই ডাক শুনে অন্য বাঁদরের বুঝতে পারে যে তাকেই ডাকা হচ্ছে, অন্য কাউকে নয় এবং সেটাই তাদের নাম।
বটলনোজ ডলফিনরাও এইভাবে হুইসেলের মতে শব্দ উৎপন্ন করে, সেই বিশেষ শব্দে একটি নির্দিষ্ট ডলফিনই সাড়া দেয়। গবেষণা যতই অগ্রসর হবে ততই আরও নতুন নতুন প্রাণীদের সম্বন্ধে আমরা জানতে পারবো। তাদের যোগাযোগের ভাষা, হর্ষ-বেদনার অতল তলের সন্ধান পাব। পঞ্চতন্ত্রের গল্পের মত মানুষও একদিন প্রাণীদের সাথে মন খুলে গল্প করতে পারবে।