ছোটদের কথা
ছোটদের কথা
গত সংখ্যার আলোচনার পর—
দ্বিতীয় পর্ব
ম্যাকবেথ তাঁর স্ত্রীর কাছে ডাইনীদের ভবিষ্যত বাণীর কথা সবিস্তারে জানালেন। একথাও জানালেন যে প্রথম ডাইনীর বলা ভবিষ্যৎবাণী ইতিমধ্যেই সঠিক হয়েছে। তাই তিনি অত্যন্ত দোলাচল চিত্তে আছেন। লেডি ম্যাকবেথ মোটেই ভাল মানুষ ছিলেন না। ডাইনীদের ভবিষ্যৎবাণী শুনে তিনি ম্যাকবেথকে সৎ পরামর্শ দেওয়ার ধারে কাছেও গেলেন না--বরং ম্যাকবেথ যে খুন রক্তপাতকে ভীষণ ভাবে ভয় পেতেন সেই ভয়কে পাত্তা না দিয়ে তিনি ম্যাকবেথকে আরও উচ্চাকাঙ্খী করে সিংহাসন অভিলাষী করে তুললেন। এই প্রসঙ্গে সম্রাটকে খুন করার পরিকল্পনা করা তার পক্ষে স্বাভাবিক ছিল। তিনি ম্যাকবেথকে বোঝাতে চাইলেন যে স্কটল্যান্ডের সম্রাট হতে চাইলে রক্তপাত এড়ানো কোনমতেই সম্ভব নয়--তা তিনি রক্তপাতকে যতই ভয় করুন কেন?
এই সময় স্কটল্যান্ডে একটা প্রচলিত প্রথা ছিল যে রাজা, যিনি স্কটল্যান্ডের মহারাজ তিনি বিশেষ বিশেষ কারণে জমিদারদের বাড়ি আতিথ্য গ্রহণ করতেন। এই সময় ডানকান ম্যাকবেথের নবতম জমিদারী উপলক্ষ্যে ম্যাকবেথের আতিথ্য গ্রহণ করেন। সঙ্গে ছিলেন দুই পুত্র ম্যালকম ও ডোনালবেন এই তিন রাজ পরিবার সদস্য ব্যতীত সম্রাটের সঙ্গে ছিল এক বিরাট বাহিনী। সেই বাহিনী সমেত রাজ পরিবারের সদস্যরা ম্যাকবেথের প্রাসাদে সুন্দর ভাবে আধিষ্ঠিত হলেন। ম্যাকবেথের রাজপ্রাসাদ ছিল অত্যন্ত সুন্দর এবং সেই প্রাসাদে সুবাতাস বইত চিরটাকাল। মোয়ালো এবং মার্লট পাখিরা প্রাসাদের অলিন্দে অলিন্দে বাসা বেঁধেছিল। সম্রাট ডানকান এবং তাঁর সঙ্গী সাথীরা অত্যন্ত আরামে সেই প্রাসাদে থাকছিলেন। লেডি ম্যাকবেথ তাঁদের বিন্দুমাত্র অসুবিধার তাৎক্ষণিক সমাধান করছিলেন। পথশ্রমে ক্লান্ত ডানকান তাড়াতাড়ি ঘুমুতে গেলেন এবং তৎকালীন রীতি অনুযায়ী তার দুইপাশে দুই সেনাধ্যক্ষ শুয়েছিলেন। প্রাসাদের সর্বকালীন কর্ত্রী হিসাবে লেডি ম্যাকবেথ সকলের সুখ-দুঃখ দেখার দায়িত্ব নিজের কাঁধে দিয়েছিলেন। সম্রাট এবং তাঁর দুই দেহরক্ষী ঘুমিয়ে পড়েছেন-- সেই সময় লেডি ম্যাকবেথ তাঁদের গভীরভাবে লক্ষ্য করছেন। সম্রাটের একজন দেহরক্ষী ঘুমের মধ্যে বলে উঠলেন--‘‘ঈশ্বর আমাদের রক্ষা করুন।’’ অপরজন দেহরক্ষী ঘুমের মধ্যেই বলে উঠলেন--‘‘আমেন।’’ সমস্ত সৈন্য সহ সম্রাট ডানকানের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে নিজের কাজে অত্যন্ত প্রীত হলেন।
সময়টা ছিল মধ্যরাত্রি। এই সময় সকল সুখী সৎ মানুষেরা ঘুমোন। কেবল জেগে থাকে দুষ্কূতিরা এবং সেই সব লোকেরা যারা মতলব ভাঁজে নিরীহ মানুষদের উদ্দেশ্যে, যাঁদের পারিপার্শ্বিকের প্রতি অনাগ্রহ তাঁদের মৃত্যু পর্যন্ত ডেকে আনে। সেইসময়ে প্রস্তুত হচ্ছেন লেডি ম্যাকবেথ সদাশয় ডানকানের মৃত্যুছক তৈরী করতে। এই মৃত্যুছক কষা যে কোন নারীর পক্ষে প্রায় অসম্ভব বলা যায় কিন্তু লেডি ম্যাকবেথ জানতেন এরকম একটা খুনের পরিকল্পনা তাঁর স্বামীর পক্ষে প্রায় অসম্ভব। কিন্তু ম্যাকবেথের সম্রাট হওয়ার অভিলাষ লেডি ম্যাকবেথ জানতেন-- তাই তাঁর স্বামীর সুপ্ত ইচছার বাস্তব রূপ দেবার জন্য উঠে পড়ে লাগলেন। তিনি জানতেন ম্যাকবেথের কোমল হৃদয়, যেকোন সময় তাঁর প্রতিজ্ঞা থেকে সরে আসতে দ্বিধা করবেন না এবং প্রতিজ্ঞা পূরণের ছক যা ছিল ডানকানকে সরাসরি হত্যা করা তা ম্যাকবেথের পক্ষে পূরণ করা সম্ভব হবে না। তাই লেডি ম্যাকবেথ নিজের হাতে ধারালো ছুরি নিয়ে যেখানে সম্রাট ডানকান ঘুমুচ্ছিলেন সেই শয্যার দিকে এগিয়ে চললেন। যে দুই প্রহরী রাজাকে প্রহরা দেবার জন্য নিযুক্ত ছিলেন তাঁরা পরিপূর্ণ নিন্দায় মগ্ন। তাছাড়া তাঁরা এতটাই অপ্রকৃতিস্থ ছিলেন যে তাঁরা সম্পূর্ণভাবে বাস্তব অবস্থার বাইরে। লেডি ম্যাকবেথ উন্মুক্ত ছুরিকা হস্তে এগিয়ে চললেন সম্রাট ডানকানের দিকে। লেডি ম্যাকবেথ ডানকানের মুখের দিকে তাকালেন। মুকুটহীন ডানকানের মুখের দিকে তাকিয়ে চমকে উঠলেন--‘‘একি মুকুট ছাড়া নিন্দিত ডানকান যে তারই বাবা, হুবহু বাবা। বাবার বুকে ছুরি। সভয়ে পিছিয়ে এলেন লেডি ম্যাকবেথ।
লেডি ম্যাকবেথ পরামর্শের জন্য ম্যাকবেথের শরণাপন্ন হলেন। এই সরে আসার পিছনে কারণ ছিল যথার্থ। প্রথমতঃ তিনি শুধু ডানকানের প্রজা ছিলেন না--ডানকানের বিশেষ আপনজন ছিলেন। প্রজানুরঞ্জক সম্রাটের অধীনস্থ জমিদার। দ্বিতীয়তঃ সেই বিশেষদিনের জন্য ডানকান ছিলেন ম্যাকবেথের অতিথি এবং অতিথির রক্ষণাবেক্ষণের দায় সম্পূর্ণভাবে গৃহকর্তার অর্থাৎ যাঁর গৃহে ডানকান আতিথ্য গ্রহণ করেছেন। গৃহকর্তার দায় সম্পূর্ণভাবে অতিথির রক্ষণাবেক্ষণ করা কোনভাবেই তাঁর বুকে ছুরি বসানো নয়। তৃতীয়তঃ ডানকান ছিলেন এক প্রজানুরঞ্জক, দয়ালু রাজা। তিনি একজন যোগ্য বিচারক এবং অধীনস্থ ভূস্বামীদের অত্যন্ত সমাদর করতেন এবং সমাদৃত জনেদের মধ্যে ম্যাকবেথ ছিলেন অন্যতম। চতুর্থতঃ এই সম্রাটদের জন্য স্বর্গে আসন সংরক্ষিত থাকে। শুধু তাই নয়, তাঁদের প্রতি কোন অন্যায়, অবিচার বা খুন জখমের ঘটনা ঘটলে তাঁর অধীনস্থ ভূস্বামী এবং প্রজারা দ্বিগুণ আক্রোশে তার শোধ নেয়। প্রজাদের মধ্যে ম্যাকবেথের সুনাম ছিল--কাজেই তাঁর দুষ্কর্মের কথা দ্বিগুণ হয়ে প্রজাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে। এবং সেই দুষ্কর্মের কালিমা যদি একবার লাগে তাহলে তা শত প্রচেষ্টাতেও কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়।
তৃতীয় পর্ব
এবংবিধ চিন্তা করে ম্যাকবেথ যখন হত্যাচিন্তা থেকে অনেক দূরে সরে এসেছেন তখন লেডি ম্যাকবেথ ঝাঁপিয়ে পড়লেন তাঁর সমস্ত যুক্তি নিয়ে ডানকান হত্যার পক্ষে। তিনি বললেন ম্যাকবেথ যে এমন চঞ্চলচিত্ত তা তিনি আগেই জানতেন তবুও ম্যাকবেথ যদি সম্রাট হবার ইচ্ছা পোষণ করেন তাহলে তিনি যেন তাঁর সকল কোমলতা দুপায়ে দলে এগিয়ে যান ডানকান হত্যার দিকে। আর সবচেয়ে বড় কথা ডানকানের হত্যার দায় সহজেই অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া যাবে। এতেও ম্যাকবেথের কোনো চিত্তচাঞ্চল্য না দেখা দেওয়ায় তিনি ম্যাকবেথকে দুবলা, ভীরু, অস্থির মস্তিষ্ক, নারী সুলভ ইত্যাদি বলে অভিহিত করলেন। ম্যাকবেথকে কুকার্যে রত করতে তিনি এক ভয়ংকর তুলনা দিলেন। তিনি বললেন প্রয়োজনে তিনি স্তন্যপানরত শিশুকে মাতৃবক্ষ থেকে টেনে নিয়ে দেওয়ালে মাথা ঠুকে মেরে ফেলতেন। ম্যাকবেথের উচিত ফলাফলের কথা চিন্তা না করে ডানকানকে মেরে ফেলা।
এতেও যখন তিনি ম্যাকবেথকে ডানকান হত্যায় আগ্রহী করে তুলতে পারলেন না--লাঞ্ছিত ম্যাকবেথ উন্মুক্ত ছুরিকাহস্তে ডানকানের শোবার ঘরের দিকে তাকালেন। আচ্ছন্ন ম্যাকবেথ দেখলেন তাঁর ছুরির আগায় ফোঁটা ফোঁটা রক্ত। অত্যন্ত ভীত হয়ে উদ্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকে যেতে যেতে তিনি দেখলেন তাঁর ছুরিকা বাতাসে ভাসছে এবং তার ডগায় ফোঁটা ফোঁটা রক্ত। ম্যাকবেথ সেই ছুরিটা ধরবার বিশেষ চেষ্টা করলেন কিন্তু অপারগ হয়ে হাতে ধরা ছুরিকাটি বিরক্ত, বিব্রত ম্যাকবেথ ডানকানের বুকে বিঁধিয়ে দিলেন। সেইসময় রক্ষী দুজনের একজন নিদ্রোত্থিত অবস্থায় বলে উঠলেন--‘‘ঈশ্বর আমাদের সুরক্ষিত রাখুন।’’ অপরজন ঘুমের মধ্যে বলে উঠলেন--‘‘খুন, খুন।’’ কিন্তু তিনি মোটেই ঘুম থেকে জাগেন নি। এরপর দুজন রক্ষী একসঙ্গে ‘আমেন’ বলে পাশ ফিরে ঘুমিয়ে পড়লেন। কিন্তু শত চেষ্টাতেও ম্যাকবেথ ঈশ্বরের নাম বা ‘আমেন’ শব্দটি উচ্চারণ করতে পারলেন না।
উপরন্তু, শুনতে পেলেন এক কর্কশ কণ্ঠস্বর যেটা বলছে--‘‘ম্যাকবেথ ঘুমন্ত মানুষকে হত্যা করেছে-- অন্যভাবে বলতে গেলে ঘুম--যা মানুষকে সজীব সচেতন করে তোলে--সেই ঘুমকে সম্পূর্ণভাবে নিজের জীবন থেকে নির্বাসিত করেছে। আর অন্যভাবে বলতে গেলে আজ থেকে ঘুমকে নির্বাসন দিয়েছেন কডরের জমিদার, আরও বিশদে বলতে গেলে আজ থেকে ঘুমকে নির্বাসন দিয়েছেন কডরের জমিদার, আরও বিশদে বলতে গেলে আজ থেকে ঘুমকে বির্সজন দিয়েছেন কডরের জমিদার, আরও বিশদে বলতে গেলে আজ থেকে ঘুম আসবে না গ্লামিসের জমিদারের চোখ দুটিতো’’ এই সব কথাগুলি কেবল ম্যাকবেথের কানেই আসছিল। লেডি ম্যাকবেথ এই সব দৈবকথন মোটেই শুনতে পাচিছলেন না বরং তাঁর সংশয় হচ্ছিল যে ম্যাকবেথ হয়তো চরমতম কাজটি করে উঠতে পারেন নি। তিনি যখন বুঝলেন যে ম্যাকবেথ অপকর্মটি সমাধা করতে পেরেছেন তখন তিনি সাগ্রহে রক্ষীদের হাতে মুখে ডানকানের রক্ত মাখিয়ে দিলেন।
ভোরের আলো ফুটতেই ডানকানের হত্যার খবর চাউর হয়ে গেল। যদিও ম্যাকবেথ এবং লেডি ম্যাকবেথ দুজনেই যথেষ্ট শোকের ভান করলেন তবু লোকের সন্দেহ থেকে তিনি কোনমতেই যুক্ত হতে পারলেন না। এই সময়ে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হল সকলের অলক্ষ্যে ডানকানের দুই ছেলে ম্যালকম এবং ডোনালবেন দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলেন। ডানকানের বড় ছেলে আশ্রয় নিলেন ইংলন্ডের রাজসভায় এবং ডোনালবেন পালিয়ে গিয়ে আশ্রয় নিলেন আয়ারল্যান্ডে।
রাজার দুই ছেলে এইভাবে স্কটল্যান্ডের সিংহাসন ছেড়ে দেশের বাইরে চলে যাওয়ার জন্য স্কটল্যান্ডের বর্তমান সিংহাসনের একমাত্র দাবিদার রইলেন ম্যাকবেথ। ডাইনী বোনেদের তৃতীয় ভবিষ্যৎ বাণী এভাবেই ফলল।
চতুর্থ পর্ব
রাজত্ব নিশ্চিত হয়েও ম্যাকবেথ এবং তাঁর স্ত্রীর দুশ্চিন্তা দূর হল না। তাঁরা অদূর ভবিষ্যতের কথা ভাবতে শুরু করলেন। ডাইনীরা বলেছিল ‘ম্যাকবেথ রাজা হবে’--সে দৈববাণী সফল হয়েছে। কিন্তু ম্যাকবেথের মনে পড়ল ডাইনীরা বলেছিল--‘‘ব্যাঙ্কোর ছেলে রাজা হবে।’’ তিনটি ভবিষ্যৎবাণী যখন সফল হয়েছে তখন ব্যাঙ্কোর ছেলে রাজা হবে সেটাও নিশ্চিত তাহলে কি হবে? ম্যাকবেথের ছেলেদেরই বা কি হবে ভেবে দুজনেই চিন্তায় অধীর হয়ে পড়লেন। ব্যাঙ্কোর ছেলেরাই কি তবে স্কটল্যান্ডের ভাবী অধীশ্বর? একথা সেকথা ভাবতে ভাবতে ম্যাকবেথের মনে এই চিন্তা ধেয়ে এল--সিংহাসনে নিরঙ্কুশ আধিপত্য বজায় রাখতে হলে ব্যাঙ্কো এবং তার পুত্র ক্লিয়ন্সকে বাঁচতে দিলে হবে না এবং এই কথাটি তাঁর মনে দৃঢ়ভাবে গেঁথে গেল। ডাইনী বোনদের ভবিষ্যৎবাণী যে ম্যাকবেথ রাজা হবেন কিন্তু তাঁর ছেলেরা কখনই সিংহাসনে আরোহণ করবেন না। অন্যদিকে ব্যাঙ্কো নিজে রাজা হবেন না কিন্তু তাঁর ছেলেরা স্কটল্যান্ডের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী।
ম্যাকবেথের রাজ্যলাভ উপলক্ষ্যে এক বিরাট ভোজসভার আয়োজন করেছিলেন। ম্যাকবেথের দেওয়া এই ভোজসভায় আমন্ত্রিত হয়েছিলেন তাঁর রাজ্যের সমগ্র অভিজাতমণ্ডলী বিশেষভাবে আমন্ত্রিত হয়েছিলেন ব্যাঙ্কো এবং ক্লিয়ন্স। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় প্রাসাদে ঢোকার মুখেই যাতে ব্যাঙ্কো এবং ক্লিয়ন্স খুন হন সেজন্য ম্যাকবেথ গুপ্তঘাতক নিয়োগ করলেন। এই ভোজসভায় ঢোকার অনেক আগেই ব্যাঙ্কো এবং ক্লিয়ন্স গুপ্তঘাতক দ্বারা আক্রান্ত হন এবং মুখোমুখি লড়াইয়ে হত হলেন ব্যাঙ্কো এবং ধ্বস্তাধ্বস্তির সময় কোনোরকমে পালিয়ে বাঁচলেন ব্যাঙ্কো পুত্র ক্লিয়ন্স। ভোজসভায় ম্যাকবেথ এবং লেডি ম্যাকবেথ সুন্দরভাবে তাঁদের যোগ্য ব্যবহার করলেন। ম্যাকবেথ অভিনয় করে বললেন যে তাঁর আনন্দের দিনে ব্যাঙ্কো না আসায় তিনি ব্যাঙ্কোকে খুব বকবেন। অভিজাত মণ্ডলীর মধ্যে লর্ড এবং ব্যারণরা কেউ কেউ ম্যাকবেথের দুষ্কর্মের কথা জানলেও প্রকাশ্যে কেউই মুখ খুললেন না। কিন্তু সমস্যা জটিল হল তখন যখন ব্যাঙ্কোর সদ্যমৃত প্রেতাত্মা রক্তাক্ত চেহারায় ম্যাকবেথের চেয়ারে এসে বসলেন। ম্যাকবেথ যিনি কিছুদিন আগেও সাহসী বলে খ্যাত ছিলেন তিনি ভয়ে কাঠ হয়ে রক্তশূন্য মুখে ব্যাঙ্কোর প্রেতাত্মার দিকে চেয়ে রইলেন। লেডি ম্যাকবেথ তাঁকে ভৎর্সনা করে তাঁকে স্বাভাবিক মানুষরূপে দেখতে বা দেখাতে চাইছিলেন কিন্তু তাঁর সকল চেষ্টা বিফলে গেল। ম্যাকবেথ ভীত সন্ত্রস্ত রূপে দাঁড়িয়ে রইলেন। তাঁর জন্য নির্দিষ্ট আসন গ্রহণ করতে পারলেন না। সমবেত ভদ্রমণ্ডলী যাঁরা ম্যাকবেথের চেয়ার শূন্য দেখতে পাচ্ছিলেন তাঁরা ম্যাকবেথের অস্বাভাবিক আচরণ কেবলমাত্র অস্বাভাবিক ভয়ের প্রকাশ বলে ধরে নিলেন। ম্যাকবেথের এবংবিধ আচরণের জন্য উপস্থিত অতিথিদের অস্বাভাবিক দ্রুততার সঙ্গে বিদায় দিলেন। ম্যাকবেথ এবং লেডি ম্যাকবেথ দুজনেই এমন অস্থির অবস্থায় থাকাকালীন ম্যাকবেথ আর একবার ডাইনী বোনেদের মুখোমুখি হতে চাইলেন। সেই টাঁড়ের উপর একটি গুহায় ম্যাকবেথ সেই ডাইনী তিন বোনের সাক্ষাৎ প্রার্থনা করলেন। ডাইনী তিন বোনের কথা বারংবার ভাবতে ভাবতে ম্যাকবেথ তাদের সঙ্গে একটা মানস যোগাযোগ স্থাপন করলেন। ডাইনী তিনবোন তখন মায়াজাল বিস্তারের জন্য এক মিশ্রণ তৈরী করছিলে। সেই মিশ্রণে যে কি ছিল না তা ভাবতে অবাক লাগে-- একটা বড় কড়াইয়ে মাঝারি আঁচে তাতানো হচ্ছিল-- ব্যাঙ, বাদুর, সাপ, তক্ষকের চোখ, কুকুরে জিভ, টিকটিকির পা, রাত পেঁচার ডানা, ড্রাগণের শক্ত আঁশ, নেকড়ের দাঁত, এক ডাইনির সংরক্ষিত মৃতদেহ বা মমি, হেমলকের শিকড় যা কিনা অমাবস্যার অন্ধকারে তোলা হয়েছে, একটি ছাগলের পাকস্থলী, একজন ইহুদির যকৃত, যে গাছ নিজেই ঝড়ে উপরে গেছে সেই গাছের মূল, একজন মৃত শিশুর কড়ে আঙুল প্রভৃতি। এইসব জিনিসগুলো গলে উত্তপ্ত হয়ে গেলে তা ঠান্ডা করার জন্য দেওয়া হল বেবুনের রক্ত প্রচুর পরিমাণে। এছাড়া দেওয়া হল এক শূকরীর রক্ত যে তার নিজের সন্তানকে চিবিয়ে খেয়েছে।
ম্যাকবেথ আবার তিনজন অশরীরীকে দেখতে চাইলেন। এবার আর তিন ডাইনী আগের রূপে এল না। প্রথমজন এল এক মুকুটপরা কাটা মুণ্ডু রূপে। সে সরাসরি ম্যাকবেথকে নাম ধরে ডেকে বলল--‘‘ফাইফের থেন (জমিদার) থেকে সাবধান।’’ এই সাবধানবাণী শুনে ম্যাকবেথ কাটামুণ্ডুকে ধন্যবাদ দিলেন। এক্ষেত্রে ম্যাকবেথের নিজের মনোভাব সাবধানবাণীর সঙ্গে মিলে গেল। ম্যাকডাফ যিনি ফাইফের জমিদার, তাঁকে ম্যাকবেথ ঈর্ষা করতেন। দ্বিতীয়জন এল এক রক্তাক্ত শিশুর রূপে। এসে ম্যাকবেথকে সরাসরি নাম ধরে ডেকে বলল--‘‘ম্যাকবেথ তোমার ভয় নেই। নারী যার জন্ম দিয়েছে এমন কোন স্ত্রী বা পুরুষ থেকে তোমার কোন ভয় নেই।’’ এই অশরীরীর কথা শুনে ম্যাকবেথ ভীষণভাবে উজ্জীবিত হয়ে উঠলেন। চিৎকার করে বললেন, ‘‘বেঁচে থাক ম্যাকডাফ, এ যাত্রায় তুমি বেঁচে গেলে। তুমি তো কোন মায়ের থেকেই জন্মেছ।’’ ম্যাকবেথের উল্লাস পৈশাচিকতার সীমায় পৌঁছেছে। তৃতীয়জন এল এক শিশুর রূপে। শিশুটির মাথায় মুকুটপরা এবং সে ভয়ানকভাবে বিসদৃশ--হাতে তার এক বৃক্ষচারা--যা তার মুখটিকে অনেকাংশে অদৃশ্য করে রেখেছে। ম্যাকবেথকে সান্ত্বনা দিয়ে সেই অশরীরী বলল--‘‘যতদিন না বিরনাম বন উঠে আসছে ডানসিয়েনি পর্বতে ততদিন ম্যাকবেথের ভয় পাবার মত কিছু নাই। আর কে বা গাছকে শিকড়চ্যুত হয়ে চলতে দেখেছে।’’ এবংবিধ অসম্ভব কথা শুনে ম্যাকবেথের ভয় দূর হল এবং তিনি আরও উচ্চাকাঙ্খী হয়ে উঠলেন। তিনি ভরসা করে তৃতীয় অশরীরীকে প্রশ্ন করলেন--‘‘তুমি যে বলছ যেসব অবাস্তব কথা যা না হলে আমার মৃত্যু সম্ভব নয় তাহলে তো আমি বেঁচেই থাকব। আমার তো আর কাউকে ভয় পাবার কিছুই নেই।’’ বলেই ম্যাকবেথ খল খল করে নৃশংস দুরাচারীর হাসি হেসে উঠলেন। ম্যাকবেথের হাসির পর দেখা গেল শূন্য থেকে এক মায়া কড়াই পৃথিবীর মাটিতে নেমে এল। একটি অদ্ভুত গানের সুর শোনা গেল এবং সেই গানের সুরে একে একে আটটি রাজা প্যারেড করে হেঁটে গেলেন। প্যারেডের সব শেষে ছিলেন ব্যাঙ্কো। ব্যাঙ্কোকে অদ্ভুত এবং রক্তাক্ত দেখাচ্ছিল। এরপর গানের তালে তালে নেচে গেল তিন ডাইনী বোন। এরপর থেকে ম্যাকবেথের মন হিংস্র, কুটীল ভাবনায় একেবারে তমসাচ্ছন্ন হয়ে পড়ল।
পঞ্চম পর্ব
ডাইনী বোনেদের কবল থেকে বেরিয়ে ম্যাকবেথ প্রথম শুনলেন--ম্যাকডাফ, ফাইফের জমিদার ইংল্যান্ডে পালিয়েছেন, সেখানে প্রয়াত সম্রাটের জ্যেষ্ঠপুত্র ম্যালকম যে সৈন্যবাহিনী গড়ে তুলছিলেন ম্যাকবেথের বিরুদ্ধে তিনি সেই সৈন্যদলে যোগ দিয়েছেন। ক্রোধান্ধ ম্যাকবেথ তখনই প্রতিজ্ঞা করলেন যে তিনি ম্যাকডাফকে হত্যা করবেন। সেই অভিলাষে তিনি ম্যাকডাফের প্রাসাদ আক্রমণ করলেন এবং প্রাসাদে ম্যাকডাফকে না পেয়ে ম্যাকডাফের স্ত্রী এবং সন্তানদের হত্যা করলেন। শুধু তাই নয় ম্যাকবেথের দূরতম রক্তসম্বন্ধীয় আত্মীয় তাঁর রোষানল থেকে অব্যাহতি পেল না।
ম্যাকবেথের এই ভয়াবহ কাণ্ড কারখানা দেখে অভিজাত সম্প্রদায়ের মানুষজনের অনেকেই ইংলন্ডে গিয়ে ম্যাকডাফ এবং ম্যালকমের দলে যোগ দিলেন। দেশের ছোটবড় অভিজাত সম্প্রদায়ের সকলে ম্যাকবেথকে ঘৃণা করতে শুরু করলেন। ম্যাকবেথের রাজ্যকালে দিনযাপনের চেয়ে ওঁরা কমবেশি সকলেই ডানকানের কথা মনে করতেন এবং মনে মনে এত্ত ভাবতেন যে ডানকান কবরে শুয়ে বরং তিনি শান্তিতে আছেন।
ম্যাকবেথের রাজ্যে যখন এসমস্ত কাণ্ড কারখানা চলছে তখন ম্যাকবেথের কুকর্মের একমাত্র দোসর লেডি ম্যাকবেথ তাঁদের দুষ্কর্মের কথা মনে মনে আলোচনা করে বুঝলেন যে তাঁরা কী নিদারুণ অপকর্মই না করেছেন। ম্যাকবেথের একমাত্র সান্ত্বনাস্থল ছিল তাঁর স্ত্রী। সেই স্ত্রীও তাঁর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে গভীর দুঃখে নিমজ্জিত হয়ে পড়লেন। শুধু তাই নয় তিনি নিজে আত্মহননের পথ বেছে নিলেন। শেষ হয়ে গেল ম্যাকবেথের একমাত্র কুকর্মের সঙ্গী। দুষ্কর্মে যিনি তাঁকে উৎসাহ যুগিয়েছেন--চেষ্টা করলে তিনি তাঁকে সৎপথে ফিরিয়ে আনতে পারতেন। এখন পৃথিবীতে এমন কেউ রইল না যাকে নিজের অপকর্মের কথা নির্ভর করে বলতে পারেন।
ম্যাকবেথের আর বাঁচতে ইচ্ছা রইল না। স্ত্রীর জন্য দুঃখ এবং সমস্ত পারিপার্শ্বিক চিন্তা করে তাঁর মনে হল মৃত্যুই শ্রেয়। তবু ম্যাকডাফের কথা চিন্তা করে তাঁর পুরানো মনোভাব জেগে উঠল। তাঁর মনে হল ম্যাকবেথ বীর--সে হার মানতে শেখে নি। তার উপর ডাইনীদের বলা কোন--নারী জঠর জাত স্ত্রী বা পুরুষ তাঁর মৃত্যু ঘটাতে পারবে না--একথা ভেবে তিনি নিজেকে প্রাসাদে আটকে রেখে পরিকল্পনা করতে লাগলেন কিভাবে ম্যালকমের আক্রমণ প্রতিহত করতে পারবেন। নিজ প্রাসাদে নিজে অন্তরীণ থেকে যখন আবোল তাবোল ভেবে চলছেন তখন তাঁর মনে পড়ল অশরীরীদের মন্তব্য--‘‘যতদিন না বিরনাম বন উঠে আসছে ডানসিয়েনে ততদিন ম্যাকবেথের ভয় পাবার কিছু নেই।’’ একথা মনে পড়ায় তিনি আরও একটু আশ্বস্ত হলেন। আশ্বস্ত হয়ে যখন তিনি কিছুক্ষণের জন্য পরিকল্পনা করা বন্ধ করেছেন তখন এক দূত হন্তদন্ত হয়ে ম্যাকবেথের কাছে উপস্থিত হলেন--দূতের চুল এলোমেলো, মুখে এক অসম্ভব কিছু দেখার বিস্ময়, তিনি হাঁপাতে হাঁপাতে ম্যাকবেথকে জানালেন--‘‘মহানুভব আমি কী বলব সঠিক বুঝতে পারছি না, বিরনাম বনাঞ্চল সোজা হেঁটে এগিয়ে আসছে। একথা শুনে ম্যাকবেথের হাত পা ঠান্ডা হয়ে এল। তবু কঠোর কণ্ঠে তিনি দূতকে বললেন, ‘‘যদি দেখি আমার সঙ্গে তঞ্চকতা করেছ--তাহলে ফাঁসীকাঠে তোমায় ঝোলাব এবং না খেয়ে শুকিয়ে যতদিন না মরবে ততদিন তুমি সেই ফাঁসীকাঠেই ঝুলবে মিথ্যাবাদী, জোচ্চর’’--ম্যাকবেথ দূতকে যে সমস্ত নিন্দাশব্দরাজী জানা ছিল--উজাড় করে দিলেন। ম্যাকবেথ মনে প্রাণে বিশ্বাস করতেন একটি বড় বন কখনও চলতে শুরু করতে পারে না যদিও ম্যালকম ইংলন্ডে সৈন্য সাজাচিছলেন বলে শুনেছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে ম্যাকডাফ যোগ দিয়েছেন তবুও তিনি অশরীরীদের দ্বর্থক ভবিষ্যৎবাণীতে বিশ্বাসী হয়ে নিজের অমরত্বে বিশ্বাসী ছিলেন।
যে আধিভৌতিক বাণী ম্যাকবেথকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল--সেই আধিভৌতিক বাণীর পার্থিব বর্ণনা তিনি স্বচক্ষে দেখলেন প্রাসাদের অলিন্দ দিয়ে--বিরনাম বন উঠে আসছে। সুদক্ষ সেনানায়ক ম্যাকডাফ সৈন্যদলকে বুঝিয়েছিলেন ম্যাকবেথ ও তাঁর সৈন্যদলকে সম্পূর্ণভাবে পরাজিত করতে হলে কিছুতেই তাঁদের প্রকৃত সৈন্য সংখ্যা প্রতিপক্ষকে বুঝতে দিলে চলবে না। তাই ম্যাকবেথ ও তাঁর দলকে বিভ্রান্ত করার জন্য একটি করে বৃক্ষশাখা নিজেদের সামনে ধরে--অন্যভাবে বললে বলা যায় নিজে আত্মগোপন করে ম্যাকবেথের প্রাসাদের কাছে পৌঁছান যায়। এইভাবে সৈন্যদলকে বিরনাম বনের এক একটি শাখা সামনে ধরে এগিয়ে আসতে দেখে ম্যাকবেথের প্রতীতী হল বিরনাম বন এগিয়ে আসছে। অসহায় ম্যাকবেথ অবস্থার প্রতিকূলতা বুঝে সৈন্যদলকে প্রস্তুত হতে আদেশ দিলেন এবং প্রাসাদের বাইরে বেরিয়ে স্বয়ং যুদ্ধ পরিচালনার দায়িত্ব নিলেন। যুদ্ধ পরিচালনার দায়িত্বে এসে তিনি নিজের মনে বললেন--‘‘আমার এখন যুদ্ধ করা ছাড়া অন্য কোন উপায় নেই। কিন্তু এই রোদ-গরমে আমি তিষ্ঠুতে পারছি না। পালাবার পথই বা কোথায়? আমার মত হতভাগ্যের এখন মৃত্যু হলে ভাল। কিন্তু মৃত্যুও এই হতভাগ্যর আশ্রয় দিতে পারবে না। এই প্রথম ম্যাকবেথ অশরীরীদের কথার দ্ব্যর্থদ্যোতনা হৃদয়ঙ্গম করলেন। তিনি বুঝলেন বিরনাম বন উঠে আসার কথা বলে কি বুঝিয়েছিল।’’
ম্যাকবেথের যে স্বল্পসংখ্যক অনুগত প্রজা তখন অবধি বজায় ছিল তারা প্রকাশ্যে ম্যাকবেথের প্রতি আনুগত্য দেখালেও মনে মনে ম্যাকবেথকে স্বৈরাচারী, হন্তারক বলে ভাবত। যেখানে ম্যাকডাফ যুদ্ধ করতে করতে এসেছেন সেখানটা ছেড়ে চলে যেতে চাইলেন কেননা অশরীরীরা তাঁকে ম্যাকডাফ থেকে সাবধান হতে বলেছিল। ম্যাকডাফ নিজের স্ত্রী সন্তানদের হত্যাকারীকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি দিতে দিতে ম্যাকবেথের সামনে এগিয়ে আসেন। ম্যাকবেথের সামনা সামনি এসে পড়লেও ম্যাকবেথ আর একবার অশরীরীদের কথায় বিভ্রান্ত হন--অশরীরী তাঁকে বলেছিল--‘‘যে পুরুষ বা নারী সরাসরি মাতৃগর্ভ থেকে পৃথিবীতে ভূমিষ্ঠ হয়েছে--তার থেকে ভয়ের কিছু নাই--মৃত্যুতো দূরস্থান। ম্যাকডাফের মুখোমুখি হয়ে তাকে তস্কর, দুষ্কূতি ইত্যাদি অপভাষণে ভূষিত করে জানালেন যে ম্যাকডাফের তরবারী যত দ্রুত চলুক না কেন ম্যাকবেথের কেশাগ্র স্পর্শ করতে পারবে না।
প্রতুত্তরে ম্যাকডাফ ম্যাকবেথকে ঈশ্বরে অবিশ্বাসী, নরকের কুকুর সম্ভাষণ করে বললেন--ম্যাকবেথের মৃত্যু, তাঁর হাতেই নিশ্চিত। কেননা তাঁর জন্মের আগেই এক ধাত্রীমায়ের হাত তাঁকে মাতৃগর্ভ থেকে তুলে পৃথিবীতে এনেছিল। ম্যাকডাফের মুখে একথা শুনে ম্যাকবেথ এতক্ষণ যে সাহসে ভর করে তিনি ম্যাকডাফ এবং তাঁর সৈন্যদলকে হত্যা করার হুমকি দিচ্ছিলেন--সেই সাহস ফুটো বেলুনের মত চুপসে গেল। ম্যাকবেথের অন্যমনস্কতার সুযোগ নিয়ে ম্যাকডাফ ম্যাকবেথের শিরচ্ছেদ করলেন। শিরচ্ছেদ করলেন শুধু তাই নয়, সেই কাটা মুণ্ডু উপহার দিলেন ডানকানের প্রকৃত উত্তরসূরী--স্কটল্যান্ডের যোগ্য অধিকর্তা ম্যালকমকে।
পরিশিষ্ট
লেডি ম্যাকবেথ আগেই আত্মহনন করেছিলেন। এখন গেলেন ম্যাকবেথ--যাঁর ডানকান হত্যা সমগ্র প্রজাদের খেপিয়ে তুলেছিল--প্রজারা আনন্দে ম্যালকমের রাজ্যভিষেকের ক্ষণ গুনতে লাগল। কালে কালে ম্যালকম ডানকানের যোগ্য উত্তরসূরী রূপে স্কটল্যান্ড শাসন করতে লাগলেন।
॥ সমাপ্ত॥