ছোটদের কথা
ছোটদের কথা
কুড়মুন হরিজন অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়
একদা এক সময় বজ্রামৃত পাহাড়ে এক চমরী গাই বাস করত। সে খুব পরিশ্রমী কিন্তু খুব স্বার্থপরও ছিল। অন্যের জন্য কিছু করতে হলে তার গায়ে জ্বর আসত। একদিন সে বাচ্চা প্রসব করল। যেহেতু ছোট থেকেই খাবারের জন্য তাকে পাহাড় থেকে নেমে আবার বাড়িতে ফিরতে হত। তাই সে ভাবলো, ‘‘রোজ খাবারের জন্য নূন্যতম ৭ ঘণ্টা পরিশ্রম করতে হয়। আবার বাচ্চার জন্য যদি পরিশ্রম করি তবে তো আমি মারাই যাব। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাচ্চাকে আমার কাছ থেকে দূরে সরাতে হবে। যে কোন একটা উপায় বের করতেই হবে।'' তাই সে ঠিক করলো তাকে সেখান থেকে চম্পট দিতে হবে কিন্তু তখন গোধূলি বেলার জন্য সূর্যের আলো ক্ষীন হয়ে এসেছে। তাই সে পরের দিন যাওয়ার পরিকল্পনা নিলে কিন্তু স্বল্প সময়ের মধ্যেই ঘটে গেল এক ঘটনা। সেদিনই বাচ্চা প্রসব করায় তার জ্বর এলো কিন্তু এই জ্বরটা একটু আলাদা রকমের। বাচ্চার পিছনে খাটতে হচ্ছে বলে তার নাকি জ্বর এসেছে। উঠতে পর্যন্ত পারছে না। পরদিন ভোরবেলাতেই সে বেরিয়ে পড়ল। রাস্তায় অনেক বিপদের সম্মুখীন হল। একটু যেতে না যেতে একটা পাইন গাছ হঠাৎ তার যাওয়ার রাস্তায় ভেঙে পড়ে গেল।
আর এমন ভাবে পড়ল যে রাস্তা পারাপারের পথ বন্ধ হয়ে গেল। সে রাস্তা পার হওয়ার কোনো পথ না পেয়ে আনমনা হয়ে সেখানেই বসে পড়ল। দেখতে দেখতে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলো। নিঝুম রাতে তার মাথায় এক বুদ্ধি এলো। সে যদি গাছটির কচি ডালপালা ও পাতা খেয়ে ফেলে তাহলে সে রাস্তা পারাপার করতে পারবে। যেমন ভাবা তেমন কাজ। কিন্তু গাছের সব পাতা ও ডালপালা খাওয়ার পরও গাছটির মোটা কান্ডটি পড়ে রইল। সে গায়ের জোরে সেটিকে সরানোর চেষ্টা করল। এবং ঢালু রাস্তা হওয়ায় গাছের গুড়িটি খুব সহজেই নিচের দিকে গড়িয়ে গেল। তার থেকে ঘটলো এক বিপদজনক কান্ড। গুড়িটি নামতে নামতে এক বড় পাথরে গিয়ে ধাক্কা মারল। পাথরটি ছিল ঝুলন্ত অবস্থায় তাই গুড়িটির ধাক্কায় পাথরটি গড়িয়ে সেই রাস্তার মাঝামাঝি এসে পড়ল। এই স্বল্প সময়ে এত কান্ড ঘটে যাবে তা সে আন্দাজও করতে পারেনি। বহু কষ্ট করেও সে পাথরটিকে রাস্তা থেকে সরাতে পারল না। ঠিক সেই সময় পাহাড়ের উপর থেকে কয়েকজন পর্বত আরোহী নেমে আসছিল। চমরী গাইটা পাথর সরানোর জন্য তাদের কাছে সাহায্য চাইলো কিন্তু কেউ তার কথা বুঝতে না পেরে তাকে মারতে গেল। চমরী গাইটা তাদের মতলব বুঝতে পারল। তাই সে ভাবল মার খাওয়ার চেয়ে বাচ্চার যত্ন নেওয়াই শ্রেয়। তারপর সে পুনরায় পাহাড়ের উপরে উঠে গেল এবং বাচ্চাটিকে স্নেহ ও যত্ন করতে লাগলো। যদিও সেই কাজটি করতে কার্পণ্যবোধ করল তবুও সে বাচ্চার যত্ন নিতে বাধ্য হলো। ধীরে ধীরে মায়ের যত্নে বাচ্চাটি বড় হয়ে উঠলো।
সৌজন্য : কিশোর জগৎ, শারদ সংখ্যা, সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ২০২৫