ছোটদের কথা
ছোটদের কথা
পঞ্চম শ্রেণী
গোপালের মনটা আজকে একটুও ভাল নেই। আজ তার বোন গীতার জন্মদিন। তার আজ আনন্দ করবারই কথা। কিন্তু সে ষান্মাসিক পরীক্ষায় ফেল করায় তার বাবা তাকে একগাদা অঙ্ক দিয়ে বাজরে চলে গেলেন। গোপালের ইচ্ছে নেই। সে ভাবলে আজতো তার পাশের পাড়ার ছেলেদের সঙ্গে ক্রিকেট ম্যাচ। তাহলে সে মাঠে চলে যাক। তারপর বাবাকে আসতে দেখলেই ছুটে এসে পড়ার টেবিলে বসে পরবে। এই ভেবে সে মাঠে চলে গেল।
এদিকে বাজারে গোপালের বাবা মেয়ের জন্য টুকিটাকি কিনতে কিনতে গোপালের জন্যও একটা খুব সুন্দর ফাউন্টেন পেন কিনে ফেললেন। আর গোপাল খেলায় এত মত্ত যে বাবাকে আসতে দেখেনি। গোপালের বাবা বাড়ি এসে দেখলেন গোপালের পড়ার ঘরের দরজা বন্ধ। তিনি কয়েকবার ডাকাডাকি করলেন, কিন্তু কোন সাড়া পেলেন না। তিনি ভাবলেন হয়ত শুনতে পায়নি। এরপর বেশ কিছুক্ষণ কেটে গেল। তখন গোপালের বাবা গোপালের মাকে বললেন আমিতো ওকে এত অঙ্ক দেইনি। গোপালের মা বললেন, ‘তাহলে বোধ হয় ও বাংলা পড়ছে।’এই বলে তিনি খুন্তি নেড়ে দেখালেন যে তাদের পাশের বাড়ির একমাত্র আদরের নাতি আনন্দ মাঠে খেলছে। আনন্দকে দেখতে গিয়ে গোপালের বাবা দেখলেন গোপালও দূরে ব্যাট হাতে দাঁড়িয়ে আছে।
কয়েক মুহূর্ত গোপালের বাবা চুপ করে রইলেন। তারপর চশমাটাকে মুছে নিয়ে আবার দেখলেন। এবং ছুটে মাঠে গিয়ে গোপালের কান ধরে তাকে বাড়ি নিয়ে এলেন। তখন গোপালের কানটি মায়ের কপালের সিঁদুরের মত হয়ে গিয়ে ছিল। গোপালের বাবার হাতের কাছে একটা পাখা ছিল। তিনি তাই দিয়েই গোপালকে পেটালেন। এমন কি গোপালের মাও আঁচল গুটিয়ে বকাঝকা করতে লাগলেন।
মাঝখান থেকে গোপালকে সারাদিন একটা ঘরে বন্দী থাকতে হল। আর তার খেলাও শেষ হল না পেনও নেওয়া হল না।
ছোটদের কথা, বর্ষ-১২, সংখ্যা-৭, মে ১৯৮৫ থেকে পুনর্মুদ্রিত