ছোটদের কথা
ছোটদের কথা
স্নেহের ছোট্ট বন্ধুরা,
এবার প্রচণ্ড গরমে তোমরা মর্ণিং স্কুল করতে বাধ্য হয়েছ। এবার অস্বাভাবিক গরম, বৃষ্টি না হওয়া প্রকৃতির এই খামখেয়ালির জলবায়ুগত নাম এল নিনো। তোমরা অনেকে হয়তো এই শব্দবন্ধটি শুনে থাকবে। এল.নিনোর এই খামখেয়ালীপণা কেন হয় সে সম্পর্কে তোমাদের জানাবার জন্য চ্যাটজিপিটি শরণাপন্ন হয়েছিলাম। তিনি যা পাঠিয়েছেন তাই সংক্ষেপে তোমাদের কাছে পৌঁছে দিলাম। বুঝতে অসুবিধা হলে তোমাদের ভূগোলের মাস্টারমশাই বা দিদিমণিকে বলবে তাঁরা তোমাদের ভাল করে বুঝিয়ে দেবেন।
ইতি—
তোমাদের সম্পাদক বন্ধু
এল নিনো হল একটি জলবায়ুগত ঘটনা, যেখানে মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের পৃষ্ঠের জল স্বাভাবিকের থেকে উষ্ণ হয়ে ওঠে। এটি সাধারণত ২-৭ বছর পরপর ঘটে এবং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়ার ওপর বড় রকমের প্রভাব ফেলে।
এল নিনোর প্রভাব : দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিম উপকূলে বেশী বৃষ্টি ও বন্যা হতে পারে। অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় খরা দেখা দিতে পারে। ভারত ও বাংলাদেশে মৌসুমী বৃষ্টিপাতের ধরণ পরিবর্তিত হতে পারে কখনো বৃষ্টি কমে যেতে পারে। বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা সাময়িকভাবে বেড়ে যেতে পারে।
সাধারণ অবস্থায় প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব থেকে পশ্চিমী বাণিজ্যিক বায়ু প্রবাহিত হয়। এল নিনোর সময় এই বায়ু দূর্বল হয়ে পড়ে বা কখনো বিপরীতমুখী হয়। ফলে উষ্ণ জল পূর্বদিকে সরে যায় এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।
বাণিজ্য বায়ু হল পৃথিবীর উভয় গোলার্ধে উপক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় (প্রায় ৩০০ অক্ষাংশ) থেকে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে নিয়মিতভাবে প্রবাহিত হয় স্থায়ী বায়ু।
প্রবাহের দিক উত্তর গোলার্ধের উত্তর-পূর্ব থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রবাহিত হয়। তাই একে উত্তর-পূর্ব বাণিজ্য বায়ু বলে।
দক্ষিণ গোলার্ধে : দক্ষিণ-পূর্ব থেকে উত্তর-পশ্চিমে প্রবাহিত হয়। তাই একে দক্ষিণ-পূর্ব বাণিজ্য বায়ু বলে।
বাণিজ্য বায়ু নাম কেন হল? প্রাচীনকালে বণিকরা পালতোলা জাহাজে এই নিয়মিত ও নির্ভরযোগ্য বায়ুর সাহায্যে মহাসাগর পাড়ি দিয়ে বাণিজ্য করত। তাই এর নাম হয়েছে ‘বাণিজ্য বায়ু’।
এল নিনোর সঙ্গে বাণিজ্য বায়ুর সম্পর্ক : সাধারণ অবস্থায় প্রশান্ত মহাসাগরে বাণিজ্য বায়ু পূর্ব থেকে পশ্চিমে প্রবাহিত হয় উষ্ণ জলকে পশ্চিমদিকে ঠেলে দেয়। কিন্তু এল নিনোর সময় এই বায়ু দুর্বল হয়ে পড়ে, ফলে উষ্ণ জল পূর্বদিকে ছড়িয়ে যায় এবং বিশ্বব্যাপী আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটায়। অর্থাৎ বাণিজ্য বায়ু হল নিরক্ষীয় অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত স্থায়ী বায়ু, যা পৃথিবীর জলবায়ু, সমুদ্রস্রোত এবং বিশ্ব বাণিজ্যের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অতীতের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য এল নিনোর কথা :
১৯৮২-৮৩ সালের এল নিনো : পেরু ও ইকুয়েডর-এ ভয়াবহ বন্যা, অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়া তীব্র খরা, কৃষি ও মৎস্য সম্পদে ব্যাপক ক্ষতি।
১৯৯৭-৯৮ সালের এল নিনো : ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনোগুলির একটি। পূর্ব আফ্রিকায় অতি বৃষ্টি ও বন্যা, ইন্দোনেশিয়ায় বনভূমিতে ব্যাপক অগ্নিকান্ড, বিশ্বব্যাপী হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি এবং কয়েক বিলিয়ন ডলার আর্থিক ক্ষতি।
২০১৫-১৬ সালের এল নিনো : বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছায়, ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার বহু অঞ্চলে দুর্বল বর্ষার প্রভাব দেখা যায়। আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে খাদ্য সংকট ও খরা দেখা দেয়। বিশ্বের বহু অঞ্চলে প্রবাল প্রাচীর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
২০২৬-এ কি এল নিনো আসছে : আন্তর্জাতিক আবহাওয়াদপ্তর প্রাথমিকভাবে সেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এল নিনোর প্রাথমিক কিছু লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তবে এখনও শক্তিশালী এল নিনো হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ইতিমধ্যে যে অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহ, জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত প্রভৃতি লক্ষণ থেকে এল নিনোর আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর চূড়ান্ত প্রভাব জুলাই-আগস্ট-এ বোঝা যাবে।
পশ্চিমবঙ্গে এর প্রভাব : এর ফলে বর্ষার বৃষ্টি অনিয়মিত হতে পারে। কিছু সময় দীর্ঘ শুষ্ক বিরতি দেখা দিতে পারে। তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী থাকতে পারে। তবে ভারতীয় মৌসুমী বৃষ্টি শুধু এল নিনোর উপর নির্ভর করে না। ভারত মহাসাগরের অন্যান্য জলবায়ুগত প্রভাবও বর্ষাকে প্রভাবিত করে। তাই এল নিনো থাকলেও সবসময় খরা হয় না।
লা লিনা : লা-নিনা হল এল নিনোর বিপরীত অবস্থা, যেখানে একই অঞ্চলের সমুদ্রের জল স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ঠান্ডা হয়ে যায়।
সৌজন্য : চ্যাটজিপিটি